ডুমুরিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর কৃষি অধিদপ্তরের তৎপরতা বৃদ্ধি

ডুমুরিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর কৃষি অধিদপ্তরের তৎপরতা বৃদ্ধি
April 06 14:14 2017

জি.এম আব্দুস ছালাম, ডুমুরিয়া(খুলনা) সংবাদদাতা:

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

গত ৩০ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে “ডুমুরিয়ায় বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের ব্যাপক আক্রমণ। ওষুধ ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। দিশেহারা কৃষক।” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এখন মাঠে ময়দানে কৃষকদেরকে সমবেত করে রোগ দমনের জন্য পরামর্শ, লিফলেট বিতরণ করে চলেছেন। লিফলেটে রোগ দমনের জন্য বিভিন্ন কোম্পানীর ১২টি ছত্রাক নাশক ওষুধের তালিকা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার আরাজি ডুমুরিয়া, কোদালকাটা, সাজিয়াড়া, ভুলটিয়া, মাধবকাঠি বিলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা আক্রান্ত ধান অনেকেই কেটে ফেলছেন। আবার অনেকেই ছত্রাক নাশক ওষুধ ধানক্ষেতে ছিটিয়ে চলেছেন। আরাজি ডুমুরিয়ার বর্গাচাষি আফসার আলী সরদার আক্রান্ত ক্ষেতে বালাই নাশক ছিটানোর সময় জানান, ধান তো গেছে। গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্য খড়/ বিচালি যাতে পাওয়া যায় সে জন্য বালাই নাশক এই তৃতীয় বারের  মতো ছিটাচ্ছি।

তিনি জানান, এই বিলে অধিকাংশ ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। অনেক কৃষক বাজার থেকে ৩/৪  বার করে  ওষুধ কিনে আক্রান্ত ক্ষেতে ছিটিয়েও কোনো ফল পায়নি। মাধবকাঠি বিলে আক্রান্ত ধান ক্ষেতে সানফাইটার নামক ওষুধ ছিটানোকালে কথা হয় বর্গা চাষি রূপা রায়ের সাথে। তিনি বলেন স্বামী / পিতার কোনো জমি না থাকায় রাস্তার পাশে ঘর বেঁধে স্বামী আর ২ সন্তান নিয়ে ১৫/১৬ বছর ধরে বাস করি। বাঁচার জন্য সাজিয়াড়া গ্রামের  নজরুল শেখের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করি।

এবছর অতি বৃষ্টির কারণে মাছ এবং সবজির ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মনে করেছিলাম ধান চাষ করে সেটা পোষায়ে নেব। কিন্তু তা আর হলো না। আশেপাশের বোরো ধান ক্ষেত শেষ হয়ে গেছে। আমার ক্ষেতও আক্রান্ত। স্বামী বিপ্লব রায় মজুরী দিতে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে স্কুলে পড়া ছেলেকে নিয়ে আক্রান্ত ধান ক্ষেতে বিষ ছিটাতে এসেছি। জানি না এতে রক্ষা হবে কিনা। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের কাছে বিতরণ করা লিফলেটে লেখা আছে আক্রান্ত ধান কর্তনের পর নাড়া বা বিছালী পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

কয়েক দফা আক্রান্ত ধান ক্ষেতে ওষুধ ছিটানোর পর খড় বা বিছালী পশু খাদ্যের জন্য নিরাপদ কিনা তা নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক প্রশ্ন করেছেন এ ধান যা হবে তা কি খাদ্যের জন্য নিরাপদ হবে কি ?

  Article "tagged" as:
  Categories:
write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.