পুড়িয়ে হত্যা হাওড়ার গৃহবধূকে

পুড়িয়ে হত্যা হাওড়ার গৃহবধূকে
February 09 15:09 2017

হাওড়া: পণের দাবিতে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ স্বামী-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে৷ পাঁচদিন অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বুধবার সে লড়াইয়ের অবসান হয়৷ মৃত্যু হয় তাঁর৷ মৃতার নাম সীমা জয়সওয়াল (৩৫)৷ হাওড়ার কোনার ঘটনা৷ সীমাদেবীর পরিবারের তরফ থেকে জানা যায়, চার লক্ষ টাকা পণ এক সঙ্গে দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় কিস্তিতে দিচ্ছিলেন সীমাদেবীর বাবা৷ কিস্তি ফেল হওয়ার কারণেই খুন করা হয়েছে  সীমাদেবীকে৷ তাঁর স্বামী মনোজ জয়সওয়াল-সহ শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরের বিরু‌দ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ তবে তার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তরা৷

সীমাদেবী প্রথম নন৷ আধুনিক যুগেও প্রগৈতিহাসিক এই বদ-অভ্যাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বহু গৃহবধূ৷ তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই নারকীয় ঘটনার জন্য মনোজ জয়সওয়াল-সহ বাকি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক৷

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে দাসনগর থানার কোনা বাজার এলাকার  বাসিন্দা মনোজের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সীমাদেবীর৷ বিয়ের পাকা কথা হওয়ার পর চার লক্ষ টাকা পণ দেওয়ার শর্ত রাখে মনোজ ও তার পরিবার৷ সীমাদেবীর বাবা পেশায় লোহার ব্যবসায়ী৷ ছোট ব্যবসা৷ তাই অত টাকা এক সঙ্গে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না তাঁর৷ মনোজ ও তার পরিবারকে তিনি বলেন, খেপে খেপে চার লক্ষ টাকা দিয়ে দেবেন৷ তাতে রাজি হয় মনোজ৷ সীমাদেবীর পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে টাকা দেওয়া হচ্ছিল৷ গত কয়েকদিন আগেও ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন৷ তবে মনোজ ও তার পরিবার বাকি টাকা দ্রুত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে সীমাদেবীর উপর৷ অভিযোগ, স্বামী মনোজ-সহ শ্বশুর অশোক জয়সওয়াল, শাশুড়ি কমলা এবং দেওর সুরজ মিলে মারধর করত তাঁকে৷ সীমাদেবীর দিদি পুজা জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সীমাদেবীর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে তাঁকে জানানো হয় সীমাদেবী অসুস্থ৷ তিনি হাওড়া হাসপাতালে গিয়ে দেখেন দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি আছেন সীমাদেবী৷ চিকিৎসকরা জানান, ৮০ শতাংশের বেশি পুড়ে গিয়েছে তাঁর৷ হাওড়া থেকে সীমাদেবীকে সেদিনই এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়৷ পাঁচদিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি ছিলেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার ভোররাতে মৃত্যু হয় তাঁর৷ পুলিশ মনোজ-সহ চার অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে৷

  Categories:
write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.