প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ

প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ
March 13 10:20 2017 Print This Article

ডেস্ক: প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারণে হুন্ডির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমন অভিযোগে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠিতেও কোনো কাজ না হওয়ায় এবার গবেষণায় নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কী কারণে প্রতি মাসে রেমিট্যান্স কমছে এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি গবেষণা দলও গঠন করেছে। যারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে যায় বাংলাদেশকে। রিজার্ভের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ সভারেন্ড বন্ড ছাড়ার চিন্তা-ভাবনা করছে।

এই সময় ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছরই রেমিট্যান্সের প্রবাহ তুলনামূলক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই তা হোঁচট খায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী আয় কমেছে ১৭ শতাংশ। এই আট মাসে দেশে ৮১১ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৭৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছর (২০১৫-১৬) অর্থ বছরেও মোট হিসেবে সামান্য কমেছিল রেমিট্যান্স। গত অর্থ বছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৯৪ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫ সালে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৩২ কোটি মার্কিন ডলার। এই ধারা প্রতি বছরই অব্যাহত ছিল।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে এসে দেখা যায় ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসেই রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমছে। চলতি অর্থ বছরের আট মাসের হিসাবে দেখা যায় জুলাইয়ে এসেছে ১০০ মিলিয়ন, আগস্টে ১১৮ মিলিয়ন, সেপ্টেম্বরে ১০৫ মিলিয়ন, অক্টোবরে ১০১ মিলিয়ন, নভেম্বরে ৯৫ মিলিয়ন, ডিসেম্বরে ৯৫ মিলিয়ন, জানুয়ারিতে এসেছে ১০০ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় যা ১৭ শতাংশ কম। সারা দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রদানে হুন্ডি চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই অভিযোগ আসে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটর ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে নোটিস দেয়।

একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মাসে একজন গ্রাহক তার মোবাইল হিসাবে সর্বোচ্চ ২ বারে ১৫ হাজার টাকা নগদ জমা এবং ১০ হাজার টাকা নগদ উত্তোলন করতে পারবেন। এভাবে মাসে তিনি ২০ বারে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ জমা এবং ১০ বারে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ উত্তোলন করতে পারবেন। একটি মোবাইল হিসাবধারী কর্তৃক নগদ অর্থ জমা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করা যাবে না। মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের এই হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় গত ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় বৈধ পন্থায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও কমেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকও।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংক নজর রাখছে। কেন কমছে তার কারণ বের করতে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান বলেন, রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সচেতন আছে। এর কারণ খুঁজতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি শক্তিশালী গবেষণা দল গঠন করেছে। এই গবেষণায় রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বেশ কি

view more articles

About Article Author

write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.