বদলাবে দেশের রাজনীতি, বদলাবে রাজ্যও –১১ মার্চ পাঁচ রাজ্যের ভোট গণনা

বদলাবে দেশের রাজনীতি, বদলাবে রাজ্যও –১১ মার্চ পাঁচ রাজ্যের ভোট গণনা
March 06 21:39 2017

BBC71 NEWS -০৭ মার্চ- মোদী না মমতা? প্রশ্নটা শুনে কেউ অবাক হলেও এটাই সত্য। আগামী শনিবার এমনই মেরুকরণের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

আট তারিখ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় শেষ দফার ভোট গ্রহণ। আর শনিবার ১১ মার্চ পাঁচ রাজ্যের ভোট গণনা। ইতিমধ্যেই ওড়িশার গ্রামাঞ্চলে এবং মহারাষ্ট্রের শহরাঞ্চলে আশাতীত ফল করেছে বিজেপি। পদ্ম-শিবির মনে করছে এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে সবকটিতেই জয় মিলবে। যদিও এখনই স্পষ্ট করে এমনটা বলতে পারছে না দেশের রাজনৈতিক মহল।

পঞ্জাব বিজেপি জোটের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুরে বিজেপি ভাল ফল করবেন বলে অনেকে মনে করলেও উত্তরপ্রদেশ নিয়ে কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। তবে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে গুজরাত থেকে উত্তরপ্রদেশে গিয়ে যে চমক অমিত শাহ দেখিয়েছিলেন তার পরে গেরুয়া শিবিরের জয়ের আশা খুবই স্বাভাবিক।

কিন্তু রাহুল, অখিলেশ জোট হওয়ার পরে ভোট ভাগের সমীকরণ কোন দিকে যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অবশ্য সব মহলেই রয়েছে। চিন্তা রয়েছে ভোটে মায়াবতীর মুসলিম-দলিত সমীকরন নিয়েও। সেই সঙ্গে নোট বাতিলের সু অথবা কু প্রভাবকে মাথায় রাখতে হচ্ছে। আর সেই সব নিয়েই ভারতীয় রাজনীতকে এক সন্ধিক্ষণের সামনে দাঁড় করিয়েছে উত্তরপ্রদেশ। দেশের বৃহত্তম রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলই বলে দেবে কোন পথে বইবে আগামীর ভারত। এই ফলাফল বলে দেবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীরা কতটা বিপাকে ফেলতে পারবে মোদী সরকারকে।

শুধু রাজনীতিই নয়, এই জয় পরাজয় ঠিক করবে ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎও। কারণ, মোদী জয় না পেলে অনেক কিছু ভাবনায় থাকলেও পদক্ষেপ করতে পারবেন না। দেখে নেওয়া যাক, এই ফলাফল যে আটটি বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে।

১। ১ এপ্রিল থেকে জিএসটি চালু করতে চাইছে কেন্দ্র। কিন্তু গোটা দেশে আদৌ সেটা চালু করতে পারবে কি নরেন্দ্র মোদী সরকার?
২। ২০১৭ সালেই রয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সেই লড়াইয়ে সরকার না, বিরোধী? কোন পক্ষের জোর বেশি থাকবে?
৩। বিজেপিকে কি শেষ পর্যন্ত লখনউ দখল করতে মায়াবতীর বিএসপি-র সমর্থন নিতে হবে? তবে বিরোধী জোটের সমীকরণই যাবে বদলে।
৪। অখিলেশ-কংগ্রেস জোট যদি জয় পায় তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্যেও উত্তরপ্রদেশের ফল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে মোদীর কাছে। জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হবে নয়া সমীকরণ।

৫। সপা-কংগ্রেস জোট যদি উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে ধাক্কা খায় তবে আবার উল্টো স্রোত বইবে জাতীয় রাজনীতিতে।
৬। এই ভোটে জয় পেলে মুখ্যমন্ত্রীই থাকবেন অখিলেশ সিংহ যাদব। কিন্তু একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রতিষ্ঠা পেয়ে যাবেন রাহুল গাঁধী। রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস পাবে ঘুরে দাঁড়ানোর অক্সিজেন।

৭। উত্তরপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটে বিজেপি ভাল ফল করলে এর পরে পরেই রাজ্যসভায় শক্তিবৃদ্ধি হবে মোদী বাহিনীর। আর তাতে আগামী দিনে কেন্দ্রের সরকার চালাতে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হতে পারবেন নরেন্দ্র মোদী।

৮। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও বড় বদল এনে দিতে পারে শনিবারের ফলাফল। সে দিনই ঠিক হয়ে যেতে পারে সারদা, রোজ ভ্যালি মামলায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও বিপাকে ফেলার চেষ্টা সিবিআই করবে কিনা। রাজনৈতিক মহল এমনই আটটি প্রশ্নের কথা বলছেন। এখন অপেক্ষা আর কয়েকটা দিন। তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। ফলের অপেক্ষায় মোদী, মমতা, রাহুল অখিলেশ সব্বাই।

write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.