মধ্যরাতে ঢাবিতে ছাত্রলীগের দখল-কাণ্ড

মধ্যরাতে ঢাবিতে ছাত্রলীগের দখল-কাণ্ড
March 14 16:07 2017

মধ্যরাতে সাধারণ ছাত্রদের হল থেকে বের করে দিয়ে অন্তত ২০টি রুম দখল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হাউজ টিউটররা তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে ভাঙচুর করা হয় প্রাধ্যক্ষের (প্রভোস্ট) কক্ষ। মারধরের শিকার হয়েছেন ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক।

সাধারণ ছাত্রদের বের করে দেয়া, হট্টগোল, মারধর, ভাঙচুর- সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত দফায় দফায় তুলকালাম বাধান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় বিজয় একাত্তর হলের হাউজ টিউটর সহকারী অধ্যাপক আসিফ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন হলের প্রভোস্ট এ জে এম শফিউল আলম ভুইয়া। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান ও প্রভাষক প্রয়াস রায়।

ছাত্রলীগের এই দখল-কা- কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ তাদের কোনো কর্মীকে হলে তুলতে চাইলে আমাদের কাছে দাবি জানাতে পারত।’ সোমবারের ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করেছে জানিয়ে ভিসি বলেন, ‘তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সোমবারের মধ্যরাতের দখল-কা-ের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, রাত ১২টার পর হল ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের নির্দেশে ঘটনার সূত্রপাত হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজয় একাত্তর হলের একজন ছাত্র ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলের যমুনা ব্লকের বিভিন্ন রুম দখলের চেষ্টা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের ব্যবহার করে এই ঘটনা ঘটানো হয়।’

জানা যায়, সোমবার রাত ১২টার কিছু পরে হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ফকির রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদার বিজয় একাত্তর হলের বিভিন্ন রুমে তাদের একজন করে কর্মী তুলে দেন। বের করে দেন অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকে। খবর পেয়ে হলের হাউজ টিউটররা গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। বাদানুবাদের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলের প্রাধ্যক্ষের রুম ভাঙচুর করেন। নিজেদের কর্মীদের হলে তোলার দাবিতে হট্টগোল শুরু করেন তারা। ছাত্রলীগের একপক্ষ হাউজ টিউটরদের ভয় দেখানোর জন্য হলের এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়াতে থাকেন। ভোর চারটা পর্যন্ত হলের মাঠে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানান, ঘটনার প্রথম দিকে হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তুলকালাম লাগিয়ে কাঁটাবনের দিকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর হাউজ টিউটররা এলে তারা আবার ফিরে আসেন হলে।

ঘটনার একপর্যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিজয় একাত্তর হলের যমুনা ব্লকের ৫০০৩ রুমের ছাত্র ইউএনবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদক ইমরান হোসাইনকে মারধর করে। মারধরের ফলে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমরানের রুমেও ছাত্রলীগের এক কর্মীকে তোলা হয়। তাতে ইমরান বাধা দেন। পরে খবর সংগ্রহ করে রুমে ফিরে গেলে তাকে মারধর করা হয়।

ভোর সাড়ে চারটায় হল পরিদর্শনে যান ঢাবি প্রক্টর আমজাদ আলী এবং ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান। তারা হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিনা অনুমতিতে যাদের রুমে তোলা হয়েছে তাদের বের করে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখনো হলের যমুনা ইউনিটের ২০টি কক্ষ দখল করে রেখেছেন।
ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভুঁইয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার পর তদন্ত কমিটি বসিয়েছি। তদন্তে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আজ সন্ধ্যায় এই ঘটনা নিয়ে জরুরি হল সভা ডাক দিয়েছি।’

বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফকির রাসেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে রাসেল নামের একজন ‘ছোট ভাই’ পরিচয় দিয়ে ফোন ধরেন। তিনি বলেন, ‘বড় ভাই (ফকির রাসেল) গতকাল রাতের ঘটনার পর সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। তিনি এখন ঘুমাচ্ছেন।’ এই বলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

ঘটনার ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকাটাইমসকে জানান সোমবার রাতে বিজয় একাত্তর হলের ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানেন না তিনি।

তবে বিজয় একাত্তর হলের ঘটনাকে খুবই অন্যায় কাজ বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘যারা এই কাজটি ঘটিয়েছে তারা খুব অন্যায় করেছে। তদন্তে যারা জড়িত বলে প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

  Article "tagged" as:
  Categories:
write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.