মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান/পরিজনদের ৮ দফা দাবি

মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান/পরিজনদের ৮ দফা  দাবি
June 14 11:43 2017

আজ সকাল ১১.৩০ মিনিটে খুলনা প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা, সন্তান ও প্রজন্ম কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আলহাজ্ব হোসাইন মোঃ ইউছা ওয়ায়েজ আররাফী নাজু। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রীয়ভাবে যে সম্মান পেয়েছেন/পাচ্ছেন তার জন্য বর্তমান সরকার নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। আমরা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা বর্তমান সরকারকে এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। পূর্বে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তারা মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো মূল্যায়ন বা সম্মান দেখায়নি এবং কোন ধরনের সুযোগ-সুবিধাও প্রদান করেনি। বরং মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে অবমূল্যায়ন ও নিগৃহিত করা হয়েছে এবং চাতুর্যের সাথে বহু মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের আমলে দেশ ও দেশের মানুষকে মর্যাদাশীল করে তুলেছে এবং বিদেশেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহŸানে যাঁরা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ নেই, অনেকে বার্ধক্যে উপনীত, অনেকে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ জ্বরা-ব্যাধিতে আক্রান্ত। মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তান/পোষ্যদের মূল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদান করায় জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমরা আমাদের কিছু আকূতি নিবেদন করছি।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের যে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা সম্মানি ভাতা দেওয়া হয় তা দিয়ে বাজার দর অনুযায়ী কোনো ভাবেই চলা সম্ভব নয়। সে কারণে বহু মুক্তিযোদ্ধা পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। জীবনের তাগিদে অনেকে দারোয়ানী, পিয়ন ও রিক্সা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। যার খবর জাতীয় পত্রপত্রিকায় মাঝে মাঝে প্রকাশিত হয়েছে, যা জাতির জন্য মোটেই গৌরবের নয়। অনেক অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা আছেন তারা সুচিকিৎসা না পেয়ে রোগ যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক মুক্তিযোদ্ধা ক্যান্সার, লিভার ও কিডনি রোগের মত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এমতাবস্থায় দেশের সরকারী-বেসরকারী সকল হাসপাতালে তাঁরা যাতে বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন সে ব্যবস্থা সরকার করবেÑএ আমাদের প্রত্যাশা। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান অথচ সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অনেকেই গৃহহীন, বাস্তুহারা হয়ে দেশের যেখানে সেখানে একটু মাথা গোঁজার ঠাইয়ের জন্য ভাসমান মানুষের কাতারে দাঁড়িয়েছে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক ঘটনা।

জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকা একান্তই প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে স্থায়ী বসবাসের জন্য এককালীন ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা অনুদান বরাদ্দ করা বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা সপক্ষের সরকারের কর্তব্য বলে আমরা মনে করি। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। সুতরাং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে একজন মুক্তিযোদ্ধা তার পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের অন্তিম সময়ে একটি স্থায়ী বাসস্থানে বসবাস করতে পারে সে ব্যাপারে বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা দরদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন সংগঠন দেশে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অর্থাৎ আর্থিক সংকটের কারণে সংগঠনগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারছে না। আমরা মনে করি সরকারিভাবে ঐ সমস্ত সংগঠনগুলোকে আর্থিক অনুদান প্রদানসহ পৃষ্ঠাপোষকতা করা হলে এলাকাভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কিছু কাজ করা সম্ভব। সংগঠনগুলো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারলে এলাকাভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধাগণ বিপদে-আপদে সংগঠনের সহযোগিতা লাভ করতে পারবে, অর্থাৎ সংগঠনগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের ছাতা হিসেবে কাজ করবে। এ ব্যাপারে আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের প্রস্তাবনা কোনো প্রকার বৈষম্য না রেখে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সমপরিমাণ সুযোগ- সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সাথে সরকারিভাবে মুসলিম মুক্তিযোদ্ধাদের হজ্ব পালন, অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা এবং বিনা খরচে ভিআইপি মর্যাদায় রেল ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হোক। বলা হয় মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা তাদের বেঁচে থাকার জন্য সরকারের অর্থ ব্যয় জাতির জন্য মোটেই অগৌরবের নয় বরং গৌরবের। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকারের নিকট আমাদের সংগঠনের পক্ষে থেকে আমরা কতিপয় প্রস্তাবনা উপস্থাপন করছি ঃ

 

১. মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীভাতা মাসিক ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা করা;

২. প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে এই বাংলার মাটিতে রাষ্ট্রীয় উপহারস্বরূপ বাড়ি করার জন্য এককালীন অফেরতযোগ্য ৫০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা প্রদান;

৩. সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পূর্ণ ফ্রি হোল্ডিং ট্যাক্স, পানি, বিদ্যুৎ গ্যাস, চিকিৎসা সেবা প্রদান;

৪. দেশের প্রতিটি শিক্ষাস্তরে মুক্তিযুদ্ধ সম্বলিত ইতিহাস বই রচনা করা;

৫. মুক্তিযুযোদ্ধাদের পরবর্তী প্রজন্মদের স্কুল-কলেজে ভর্তি এবং সরকারি চাকুরিতে শতভাগ কোটা নিশ্চিতকরণ;

৬. সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের দ্রæত তালিকা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক মানের স্মার্ট কার্ড প্রদান করা;

৭. সরকারিভাবে মুসলিম মুক্তিযোদ্ধাদের হজ্ব পালন, অন্য ধর্মালম্বীদের জন্য তীর্থ যাত্রা ব্যবস্থা করা;

৮. মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নিয়োজিত সংগঠনগুলোকে আর্থিক অনুদান প্রদানসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা।

বার্তা প্রেরক (এনামুল শেখ হৃদয়)

 

  Categories:
write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.