মুর্তি অপসরণ না করলে – দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে-পীর চরমোনাই

মুর্তি অপসরণ না করলে – দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে-পীর চরমোনাই
April 06 14:41 2017 Print This Article

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহা. রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন শতকরা ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে গ্রিক দেবীর মুর্তি স্থাপন করা হয়েছে। অথচ বিধর্মীদের দেশ আমেরিকার আদালতের সামনে লেখা রয়েছে সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ আইন প্রনেতা হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেন সর্বোচ্চ আদালতের সামনে মুর্তি স্থাপন করে দেশপ্রেমিক ইমানদার জনতার হৃদয়ে আঘাত দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই মুর্তি অপসরণ করা না হলে গোটা দেশে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন- আওয়ামীলীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিল ক্ষমতায় গেলে ইসলাম বিরোধী কোন কাজ করবে না। অথচ বারবার তাদের ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে আমাদেরকে রাজপথে নামতে হয়, এটা দুঃখ জনক। প্রধানমন্ত্রী নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু মুর্তি নির্মান মুসলমানের কাজ নয়।

৬ এপ্রিল ২০১৭ বিকাল ৩.০০ টায় শিববারী মোড় বাবরী চত্তরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলার উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে গ্রীক দেবীর মুর্তি অপসারণ, রেলওয়ে দক্ষিণ অঞ্চল সদর দপ্তর ও বিভাগীয় সদর দপ্তর খুলনায় স্থাপন, পাইপ লাইনে খুলনায় গ্যাস সরবরাহ, গ্যাসের মুল্য কমানোর দাবিতে গুম হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নিতীর প্রতিবাদে ও ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ও জনসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওঃ আব্দুল্লাহ ইমরান এর সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর হাফেজ মাওঃ অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল, যুগ্ম মহাসচিব মাওঃ গাজী আতাউর রহমান, খুলনা মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওঃ মুজ্জাম্মিল হক কাসেমী। সভা পরিচালনা করেন নগর সহ সভাপতি শেখ মুহা. নাসির উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারী শেখ হাসান ওবায়দুল করীম ও মাওঃ ইমরান হুসাইন।

জনসভায় পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি মূর্তি পূজা আর্চনায় বিশ্বাসী হতে পারেন, এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। সেই মুর্তি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের উপর তিনি চাপিয়ে দিতে পারেন না। তিনি মুর্তি নির্মানের মাধ্যমে দেশের প্রধান বিচারপতি হওয়ার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তিনি প্রধান বিচারপতির পদকে কলঙ্কিত করেছেন। অবিলম্বে এই মুর্তি অপসারণ করতে হবে। নয়তো আমরা অপসারনের প্রস্তুতি নিব ইনশাআল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ থেকে ধিরে ধিরে মুসলিম পরিচিতি মুছে মুসলিমদেরকে ঈমান হারা করার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে গ্রীক দেবীর মুর্তি স্থাপন এবং বিতর্কিত নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন প্রনয়ন করা হয়েছে।

বাঙালী সাংস্কৃতির নামে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে পালন করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গল শোভা যাত্রা হিন্দুদের পূজার একটি অংশ। পূজা করার নির্দেশ দিয়ে আজ সরকার বাংলাদেশের মুসলমানদের হৃদয়ে চরম ভাবে আঘাত দিয়েছে  কোলকাতার সাংস্কৃতি বাংলার জমিনে চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকার ভারতকে খুশি করতে মুর্তি রক্ষায় ব্যাস্ত। মুর্তি স্থাপনের মাধ্যমে ভারতকে খুশি করে মুসলমান দেশের ক্ষমতায় থাকা যায় না। মুর্তি বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে, মুর্তি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত মুসলমানরা ঘরে ফিরে যাবে না। প্রয়োজনে জীবন ও রক্ত দিয়ে হলেও মুর্তি অপসরণ করা হবে। তিনি আগামী ২১ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান। পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন- ভারতের সাথে প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্যকে হুমকীর মুখে ঠেলে দেওয়ার পায়তারা চলছে। ভারত যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ পূর্বেকার চুক্তি সমুহ বাস্তবায়ন করতেই আন্তরিক নয়। সেখানে কিভাবে একটি নতজানু চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে জলঞ্জলি দেওয়া হতে পারে।

নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল সাহেব বলেন- দক্ষিণ অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান খুলনা। খুলনা শিল্প ও বন্দর নগরী এখানে সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় অফিস রয়েছে। ইতিমধ্যে ৯০ কোটি টাকা দিয়ে খুলনা রেলষ্টেশনের আধুনিকায়ন ও বেনাপোল রেল ষ্টেশনের উন্নয়ন কাজ চলছে। খুলনা রেলষ্টেশনের পাশে সড়ক ও নদী পথ থাকায় বিভাগীয় সদর খুলনার গুরুত্ব অনেক বেশি। অথচ রেলওয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের সদর দপ্তর খুলনার পরিবর্তে ফরিদপুর এবং বিভাগীয় রাজবাড়ী করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। যা খুলনা বাসীর জন্য অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, খুলনাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একই সাথে খুলনাকে অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের কোন সুযোগ দেওয়া হবে না।

যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন- ইসলামের নামে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দ্বারা মানুষ হত্যা করে ইসলামকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। এসব অপকর্মের স্থান ইসলামে নেই। এগুলো প্রতিহত করে ইসলামের সঠিক রুপ তুলে ধরতে হবে। জঙ্গী সন্ত্রাসের দোহাই দিয়ে মসজিদের খুতবা নিয়ন্ত্রন করা আলেম ওলামাদের হয়রানি করা, মসজিদ ও মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করবেন না।

জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মাওঃ গাজী নূর আহম্মদ, মোঃ মুসা লস্কর, মাওঃ মুজ্জাফ্ফর হোসাইন,  মাওঃ আবু সাঈদ, শেখ নাসির উদ্দিন, মুফতী আমানুল্লাহ, মাওঃ ইমরান হুসাইন, মাওঃ ফয়সাল মাহমুদ, জি,এম সজিব মোল্লা, ইঞ্জিঃ এজাজ মানসুর হোসেন, মোঃ আবু গালীব, মুহা. আবুল কালাম আজাদ, মুহা. তরিকুল ইসলাম কাবির, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুহা. আব্দুর রশিদ, মাওঃ আব্দুল জব্বার, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, মাওঃ আব্বাস আমিন, মোঃ মাসুম বিল্লাহ, মাওঃ আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জি,এম কিবরিয়া, মোঃ জসিম উদ্দিন, হাফেজ মুস্তাফিজুর রহমান, মাওঃ মনিরু আমিরুল ইসলাম, এম,এ হাসিব গোলদার প্রমুখ।

  Article "tagged" as:
  Categories:
view more articles

About Article Author

write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.