যশোরে জিন আতঙ্কে নার্সিং ইনস্টিটিউট বন্ধ

যশোরে জিন আতঙ্কে নার্সিং ইনস্টিটিউট বন্ধ
March 05 14:46 2017

রিপোটার : যশোরের আদ-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের ছাত্রীদের মাঝে ‘জিন’ আতঙ্ক দেখা দেয়ায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার রাত থেকে জিন নিয়ে আতঙ্ক শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘জিন আতঙ্ক’ নয়, দু’জনের সাইকোলজিক্যাল ইলনেস আছে, এদের কারণে কয়েকজন ম্যাস হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় ১০ মার্চ পর্যন্ত ইনস্টিটিউট বন্ধ করা হয়েছে।

যশোর শহরতলীর চাঁচড়া এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটে এই ঘটনা ঘটেছে।

ইনস্টিটিউটের কয়েকজন ছাত্রী জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে ইনস্টিটিউটের দু’জন ছাত্রী ‘জিন, জিন’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। এতে ওই কক্ষে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কেউ কেউ একে অপরের গলা চেপে ধরেন।

একপর্যায়ে ওইরুমে থাকা ২৯ জনসহ পাশের রুমের মেয়েদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওইসময় ভয়ে অনেকের মুখ দিয়ে ফেনাও বের হয়। হুড়োহুড়িতে কয়েকজন পায়ের নিচেও চাপা পড়েন। এতে পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। পরে তাদের নিজস্ব চিকিৎসা কেন্দ্র শহরের রেল রোডে অবস্থিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কয়েক শিক্ষার্থী আরও জানান, ইনস্টিটিউটের দোতলার যে রুমে শিক্ষার্থীরা থাকেন, সেগুলোর একটিরও দরজা নেই। আর নিচতলায় তাদের শেখানোর জন্যে একটি লাশ কাটা ঘর রয়েছে। এই কক্ষেরও দরজা নেই। এই কক্ষে তাদের শেখানোর জন্যে মরদেহের ব্যবচ্ছেদ করা হয়। এ কারণে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রায় রাতেই ভয় পান।

দু’সপ্তাহ আগেও এক ছাত্রী প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলেন। পরদিন সকালে বিষয়টি তাদের হাউজকিপারকে জানালে তিনি দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দেন। তিনি বিষয়টি বাইরে প্রকাশেও নিষেধ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. খান শাকিল আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, নার্সিং ইনস্টিটিউটে মোট ১৯০ ছাত্রী রয়েছে। এদের মধ্যে দুটি মেয়ের সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম আছে। এদের অবস্থা মাইনর এবং মেজরের মাঝামাঝি। তারা প্রায়ই এ ধরনের আচরণ করে, অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়ে।

বিষয়টি হাউজকিপার আমাকে কখনো জানাননি। শনিবার রাতে এ বিষয়টি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ইনস্টিটিউটের পাঁচটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদের কারণে আরও কয়েকজন ম্যাস হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আমাদের নিজস্ব হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারা এখন আশঙ্কামুক্ত।

তিনি বলেন, রোববার সকালে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের চাহিদা অনুযায়ী ভবনের কিছু কাজ সংস্কার করার ব্যবস্থা নিয়েছি। সে কারণে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত নার্সিং ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়েরা হল ত্যাগ করেছে। আগামী ১১ মার্চ ফের কার্যক্রম শুরু হবে।

write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.