রাবির হলগুলোতে মশার উপদ্রব: অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

রাবির হলগুলোতে মশার উপদ্রব: অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা
February 21 14:49 2017

রাবি: বসন্ত পড়তে না পড়তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। বিশেষ করে দিনের আলো কমার সাথে সাথে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে একদিকে যেমন পড়াশুনার ব্যাঘাত ঘটছে অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত রোগ।

মশার কারণে সন্ধ্যা হলেই হলগুলোতে থাকা দায় শিার্থীদের। চেয়ার-টেবিল থাকা সত্ত্বেও পড়ালেখার কাজটাও তাই সারতে হচ্ছে মশারীর নিচেই বসে। এদিকে মশার জ্বালায় শিার্থীরা অতিষ্ঠ হলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের ভেতরে ও বাইরের পানির নালা, নর্দমা, ময়লার স্তুপ, কচুড়িপানা, ডাস্টবিন, দীর্ঘ দিন ধরে পরিস্কার না করায় যেন মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

মাদার বখ্শ হলের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম বলেন, আমার তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরিক্ষা চলছে। কিন্তু পড়ার জন্য টেবিলে বসলেই মশার কামড় ও ভোঁ-ভোঁ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। ফলে বাধ্য হয়ে মশারি টাঙিয়ে পড়তে হচ্ছে। শুধু তাই নয় মশার কারণে ঠিকমত বাথরুমে যাওয়াও যাচ্ছে না।

শহীদ জিয়া হলের শিক্ষার্থী ফারুক খান বলেন, হলের নেটরুমে পড়াশুনার একটা বিষয় সার্স দিতে গিয়েছি গত সোমবার। কিন্তু সেটা না নিয়ে চলে আসতে হয়েছে কারণ মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে আর বসতে পারিনি।

শাহ্ মখদুম হলের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম বলেন, টিভিরুমে খেলা দেখতে গিয়েছি। কিন্তু মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে কিছুক্ষণ দেখে ফিরে আসতে হয়েছে। তাছাড়া রুমে থাকলেও মশার কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। মাঝেমাঝে এমন অবস্থা হচ্ছে যে মশার কয়েল জ্বালিয়েও কাজ হচ্ছে না।

মুন্নুজান হলের হলের শিক্ষার্থী রাইসা জান্নাত বলেন, মশার উপদ্রবে হলে আসতে এখন ভয় করছে। হলের যেখানে যাই সেখানে মশা। রাত্রে মশারি টাঙালেও মশার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি না। মশার কামড়ে কপালটা লাল ও গুটিগুটি হয়ে গেছে।

এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হলের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, মশার উপদ্রবের কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে পাশাপাশি নানাবিধ সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। কয়েল জ্বালিয়েও বেশি সময় লেখাপড়া করা সম্ভব হয় না। তাই শিার্থীদের কথা ভেবে এর প্রতিকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে মাদার বখ্শ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, হলে অভিযোগ খাতা থাকলেও শিক্ষার্থীরা সেখানে অভিযোগ করছে না। হলে জনবল কম থাকলেও আমরা প্রতি মাসে মশা নিধনের জন্য স্প্রে করি। বিষয়টি নজরে আসায় আমি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থ গ্রহণ করবো। এছাড়া তিনি হলের শিক্ষার্থীদের যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে, নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পরামর্শ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি অনুধাবন করেছি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় সেহেতু মশা নিধন স্প্রে করা আমাদের কাজ নয়। এটি মূলত তাদের কাজ। প্রতি বছর যখনই মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায় তখনই তারা স্প্রে করে। তবে আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশাকরি কয়েকদিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।

write a comment

0 Comments

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Add a Comment

Your data will be safe! Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.
All fields are required.